বিষয়বস্তুতে যান বিষয়বস্তুতে যান
আর্কাইভে ফিরে যান
বৈশিষ্ট্যযুক্ত
নো বলের ৭ নিয়ম: ক্রিকেটের সূক্ষ্ম হিসাব
প্রেরণ

নো বলের ৭ নিয়ম: ক্রিকেটের সূক্ষ্ম হিসাব

২২ অক্টোবর, ২০২৬

ক্রিকেটে নো বল হলো এমন অবৈধ ডেলিভারি, যাতে ব্যাটিং দল সাধারণত ১ রান পায়, বলটি ওভারের ৬টি বৈধ বলের মধ্যে গণনা হয় না এবং সীমিত ওভারের ম্যাচে পরের বলে ফ্রি-হিট আসে। ২০২৬ সালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ম...

মূল

নো বলের ৭ নিয়ম: ক্রিকেটের সূক্ষ্ম হিসাব

ক্রিকেটে নো বল হলো এমন অবৈধ ডেলিভারি, যাতে ব্যাটিং দল সাধারণত ১ রান পায়, বলটি ওভারের ৬টি বৈধ বলের মধ্যে গণনা হয় না এবং সীমিত ওভারের ম্যাচে পরের বলে ফ্রি-হিট আসে। ২০২৬ সালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই মূল কাঠামো মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের খেলার শর্তে কার্যকর। ফ্রন্ট-ফুট পপিং ক্রিজের বাইরে পড়া, কোমরের ওপরে ফুলটস, বিপজ্জনক বাউন্সার, ভুল ফিল্ডিং অবস্থান বা নির্ধারিত সংখ্যার বেশি বাউন্সার—সবই নো বল হতে পারে। একটি নো বলে ব্যাটার ৪ বা ৬ রান করলে মোট স্কোর হয় যথাক্রমে ৫ বা ৭; বলটি আবার করতে হয়। তবে নো বলে ব্যাটারকে সাধারণ ক্যাচ, এলবিডব্লিউ বা বোল্ডে আউট করা যায় না। আম্পায়ারের হাতের সংকেত, স্কোরবোর্ডের অতিরিক্ত রান এবং ফ্রি-হিট—এই তিনটি একসঙ্গে দেখে সিদ্ধান্ত নিন।

Bangladeshi cricket umpire signaling no ball beside stumps during a bright international match

ক্রিকেটে নো বলের নিয়ম মুখস্থ করার সময় অনেকে এমনভাবে তাকান, যেন আম্পায়ার গোপন সরকারি বাজেট প্রকাশ করেছেন। আসলে বিষয়টি বেশ নির্দিষ্ট: ডেলিভারির বৈধতা, অতিরিক্ত রান, ব্যাটার কীভাবে আউট হতে পারে এবং পরের বলের অধিকার—এই চারটি স্তর আলাদা করে বুঝলেই বিভ্রান্তি কমে। ক্রিকেট আলোচনা পাঠকদের জন্য নিচে প্রথমে মাঠের শর্ত, তারপর স্কোরিং, শেষে বাস্তব ম্যাচের ব্যতিক্রম সাজানো হলো। প্রথমে বলটি কেন অবৈধ, তারপর তার ফল কী, এবং শেষে কোন আউট বৈধ—এই ক্রমটি অনুসরণ করুন। আরও প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যার জন্য ক্রিকেটের এলবিডব্লিউ নিয়ম দেখুন। বিস্তারিত নিয়ম এক জায়গায় গুছিয়ে নিতে চাইলে নিচের নির্দেশিকাটি অনুসরণ করুন।

আরও জানুন

ফ্রন্ট-ফুট ছাড়ালে কী করবেন: নো বল ধরুন

ফ্রন্ট-ফুটের কোনো অংশ পপিং ক্রিজের পেছনে মাটিতে না থাকলে ডেলিভারি নো বল হয়; একই সঙ্গে বোলারের পেছনের পা রিটার্ন ক্রিজের ভেতরে থাকতে হয়। এটি ক্রিকেটে নো বলের সবচেয়ে পরিচিত কারণ, কারণ ২২ গজের রান-আপে সামান্য ভারসাম্য হারালেই বোলারের জুতো সীমারেখা ছুঁয়ে ফেলতে পারে। আম্পায়ার সাধারণত নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়িয়ে বোলারের সামনের পা পর্যবেক্ষণ করেন, আর তৃতীয় আম্পায়ার প্রযুক্তি থাকলে রিপ্লে দিয়ে সিদ্ধান্ত যাচাই করতে পারেন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা আছে: পা লাইনের ওপর পড়েছে কি না, সেটি নয়—পায়ের অন্তত কিছু অংশ লাইনের পেছনে আছে কি না, সেটিই বিবেচ্য। পপিং ক্রিজের সাদা দাগ নিজে নিরাপদ অঞ্চল নয়; বোলারের জুতোর অংশ দাগের পেছনে থাকতে হবে। আইসিসির অফিসিয়াল খেলার শর্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রযুক্তি ব্যবহারের পদ্ধতি নির্ধারণ করে, যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্যামেরা বা সম্প্রচার-সহায়তা নাও থাকতে পারে। তাই আম্পায়ারের কলই চূড়ান্ত হয়। বল ছাড়ার আগে বোলারের পা, বলের উচ্চতা এবং ফিল্ডিং অবস্থান—এই তিনটি আলাদা করে দেখুন।

  • সামনের পা পপিং ক্রিজের পেছনে আছে কি না দেখুন।
  • পেছনের পা রিটার্ন ক্রিজের বাইরে চলে গেছে কি না যাচাই করুন।
  • বল ছাড়ার মুহূর্তে বোলারের অবস্থান বিবেচনা করুন।
  • নো বল হলে স্কোরে ১ রান যোগ এবং বল পুনরায় করার বিষয়টি মনে রাখুন।

ক্রিকেটে ওয়াইড বলের নিয়ম পড়লে নো বল ও ওয়াইডের পার্থক্য আরও পরিষ্কার হবে। এই পার্থক্যটি ছোট মনে হলেও স্কোরকার্ডে ভুল হলে পুরো ওভার, বোলারের হিসাব এবং ম্যাচের ফল পর্যন্ত বদলে যেতে পারে। সংখ্যা কখনও আবেগের সঙ্গে আলোচনা করে না—এটাই তার একমাত্র ভালো গুণ।

কোমরের ওপরে বল উঠলে কী করবেন: উচ্চতা মাপুন

কোমরের ওপরে ফুলটস হলে সেটি নো বল হতে পারে, কিন্তু উচ্চতা নির্ধারণের নিয়মটি বলের গতি ও ব্যাটারের অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। স্থির অবস্থায় ব্যাটার পপিং ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকলে বলটি কোমরের ওপরে পৌঁছালে আম্পায়ার সাধারণত কোমর-উচ্চ ফুলটস হিসেবে বিবেচনা করেন। ধীরগতির বল, দ্রুতগতির বল এবং ব্যাটারের উচ্চতা—সব ক্ষেত্রে একই দৃশ্যমান উচ্চতা ধরে নেওয়া যায় না; তাই সিদ্ধান্তটি পরিস্থিতিনির্ভর হলেও ইচ্ছামতো নয়।

একইভাবে, বাউন্সার মাথার ওপর দিয়ে বিপজ্জনক উচ্চতায় গেলে নো বল ডাকা হতে পারে। আন্তর্জাতিক সীমিত ওভারের ক্রিকেটে প্রতি ওভারে কতটি বাউন্সার অনুমোদিত, তা প্রতিযোগিতার খেলার শর্তে নির্ধারিত হয়; টেস্ট ক্রিকেট, একদিনের ম্যাচ এবং টি-টোয়েন্টিতে সীমা এক নয়। উদাহরণ হিসেবে, কিছু আন্তর্জাতিক সীমিত ওভারের শর্তে প্রতি ওভারে ২টি বাউন্সার অনুমোদিত থাকে, কিন্তু নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টের নথিই চূড়ান্ত। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব আইন এবং আইসিসির প্রতিযোগিতা-নির্দিষ্ট শর্ত—এই দুই উৎসকে গুলিয়ে ফেলবেন না; ক্রিকেটপ্রেমীরা এখানে প্রায়ই একই নিয়ম ধরে নেন, তারপর স্কোরবোর্ডকে অভিযুক্ত করেন।

প্রযুক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, কোমরের উচ্চতা মাপা হয় বল ব্যাটারের কাছে পৌঁছানোর সময় সম্ভাব্য অবস্থান বিবেচনা করে, বল ছাড়ার সময় নয়। ফলে ১৪০ কিলোমিটার গতির একটি বল ও ১০০ কিলোমিটার গতির একটি বল একই জায়গা থেকে উঠলেও ব্যাটারের কাছে পৌঁছানোর মুহূর্তে উচ্চতা আলাদা হতে পারে। এই কারণেই টেলিভিশন রিপ্লেতে বলের গতিপথ, ব্যাটারের ক্রিজ অবস্থান এবং আম্পায়ারের সংকেত একসঙ্গে দেখা দরকার। দ্রুত সিদ্ধান্তের নামে তিনটি আলাদা বিষয়কে এক বাক্সে ঢোকানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

নো বলের প্রকার শনাক্ত করতে এই সংক্ষিপ্ত তালিকা ব্যবহার করুন:

  1. কোমরের ওপরে বৈধ বাউন্স ছাড়া ফুলটস।
  2. নির্ধারিত সীমার বেশি বাউন্সার।
  3. বিপজ্জনকভাবে মাথার ওপর দিয়ে যাওয়া বাউন্সার।
  4. ফ্রন্ট-ফুট বা ব্যাক-ফুটের অবস্থানগত ভুল।
  5. বোলারের থ্রো করা বা নিয়মবহির্ভূত অ্যাকশন।
  6. নির্দিষ্ট ফিল্ডিং বিধি ভঙ্গ।

কোমরের ওপরে ফুলটস ও ওয়াইডের সীমা নিয়ে আরও উদাহরণ দেখতে চাইলে এই অংশটি বুকমার্ক করে রাখুন; স্মৃতি সাধারণত ৬টি বৈধ বলের মতো নির্ভরযোগ্য নয়।

আরও জানুন

Cricket ball rising above a batter’s waist in a televised Bangladesh Premier League match, tense stadium atmosphere

নো বল হলে স্কোর ও আউট কীভাবে বদলায়?

নো বল হলে ব্যাটিং দল অন্তত ১ রান পায়, ডেলিভারিটি বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না, এবং ব্যাটার বল মেরে অতিরিক্ত রান যোগ করতে পারে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নো বলের পরের ডেলিভারি সাধারণত ফ্রি-হিট, তবে রান-আউট, অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড বা বল দুবার আঘাত করার মতো কিছু আউট তখনও সম্ভব। তাই “নো বলে কেউ আউট হয় না” বলা পুরোপুরি ভুল; সঠিক বাক্য হলো, নো বলে আউটের ধরন সীমিত।

ধরা যাক, বল ব্যাটারের ব্যাটে লাগেনি এবং ব্যাটার ও নন-স্ট্রাইকার ২ রান দৌড়ালেন; স্কোরে নো বলের ১ রানসহ মোট ৩ রান যোগ হবে। বল ব্যাটে লেগে বাউন্ডারি হলে ৫ রান, ছক্কা হলে ৭ রান—যদি অন্য কোনো অতিরিক্ত পরিস্থিতি না থাকে। বল ব্যাটারের শরীরে লেগে রান হলে সেটি লেগ-বাই হিসেবে লেখা হতে পারে, কিন্তু নো বলের অতিরিক্ত রান আলাদা থাকবে। স্কোরারকে তাই নো বল, ব্যাট থেকে রান, বাই বা লেগ-বাই—প্রতিটি উৎস পৃথক করে নথিবদ্ধ করতে হয়।

নো বলে সাধারণত বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ, স্টাম্পিং এবং হিট উইকেট আউট হয় না। তবে ব্যাটার যদি বল মেরে রান নেওয়ার সময় ক্রিজের বাইরে থাকেন, রান-আউট হতে পারেন; বল ধরতে বাধা দিলে অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড হতে পারে; আর বল ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বিতীয়বার আঘাত করলে আইনভেদে আউটের প্রশ্ন উঠতে পারে। উইকিপিডিয়ার নো-বল ব্যাখ্যা দ্রুত রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহারযোগ্য, কিন্তু ম্যাচের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইসিসির প্রতিযোগিতা-নির্দিষ্ট নথি অগ্রাধিকার পায়।

আইন ২১-এর সারাংশ হিসেবে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের নীতিকে বাংলায় বলা যায়: “নো বল হলো এমন ডেলিভারি, যা বোলিং প্রান্তের আম্পায়ার অবৈধ বলে ঘোষণা করেন।” এই সংজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্যাটার বল মিস করলেও নো বল বাতিল হয় না। বরং ব্যাটার রান না নিলে দল ১ রান পায়, ওভার একই সংখ্যক বৈধ বল দিয়ে শেষ করতে হয় এবং বোলারের পরিসংখ্যানে নো বল যোগ হয়।

  • নো বলের মূল অতিরিক্ত রান: ১।
  • বৈধ বল হিসেবে গণনা: ০।
  • নো বলে বাউন্ডারি: ব্যাটে ৪ হলে মোট ৫, ব্যাটে ৬ হলে মোট ৭।
  • সীমিত ওভারে পরের বল: সাধারণত ফ্রি-হিট।
  • বৈধ আউটের উদাহরণ: রান-আউট, অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড, বল দুবার আঘাত।

Cricket scorekeeper recording a no-ball extra beside a digital scoreboard showing a free-hit symbol

নো বলের সাধারণ ভুল কোনগুলো এড়াবেন?

সবচেয়ে বড় ভুল হলো নো বল, ওয়াইড এবং ডেড বলকে একই ঘটনা ভাবা। নো বলের ক্ষেত্রে বলটি ডেলিভারি হিসেবে ঘটেছে, কিন্তু বৈধ নয়; ওয়াইডে বল ব্যাটারের স্বাভাবিক শটের নাগালের বাইরে গেলে অতিরিক্ত রান হয়; ডেড বল হলে খেলা সাময়িকভাবে থেমে যায় এবং সাধারণত কোনো সক্রিয় ডেলিভারি গণনা হয় না। ক্রিকেট স্কোরকার্ড পড়ার পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই তিনটি কলামে পার্থক্য দেখা যায়।

আরেকটি ভুল ধারণা হলো, নো বল হলেই সব সময় ফ্রি-হিট আসে। আন্তর্জাতিক সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নো বলের পর ফ্রি-হিট প্রচলিত, কিন্তু সব ধরনের ক্রিকেট, সব প্রতিযোগিতা এবং সব আইনগত পরিস্থিতিতে একই খেলার শর্ত ধরে নেওয়া ঠিক নয়। টেস্ট ক্রিকেটে প্রচলিত ফ্রি-হিট ব্যবস্থা নেই, আর কোনো টুর্নামেন্টের স্থানীয় বিধিতে আলাদা নির্দেশ থাকতে পারে। ম্যাচ শুরুর আগে প্রতিযোগিতার খেলার শর্ত পরীক্ষা করা তাই ৩০ সেকেন্ডের কাজ; ভুল ধারণা ভাঙতে ৩০ মিনিটের বিতর্কের চেয়ে এটি বেশ সস্তা।

তৃতীয় ভুল হলো স্কোরবোর্ডে মোট রান দেখে নো বলের সংখ্যা অনুমান করা। একটি নো বলে ১ রান, ব্যাটারের ৪ রান, ওভারথ্রো এবং অতিরিক্ত বাই একসঙ্গে যোগ হতে পারে; ফলে একটি ডেলিভারি থেকে ৮ বা তার বেশি রানও সম্ভব। বোলারের বিশ্লেষণে নো বলের রান সাধারণত বোলারের অতিরিক্ত হিসেবে যায়, কিন্তু বাই ও লেগ-বাই তার বোলিং বিশ্লেষণে একইভাবে যোগ হয় না। খেলোয়াড়ের বোলিং অর্থনীতি বিশ্লেষণ করতে স্কোরকার্ডের “অতিরিক্ত” অংশ এবং বলভিত্তিক বিবরণ দুটোই দেখুন।

আরও চারটি বাস্তব সতর্কতা মনে রাখুন:

  1. আম্পায়ারের হাতের সংকেত না দেখে শুধু ধারাভাষ্য শুনবেন না।
  2. বাউন্সারের সীমা ম্যাচের ধরন অনুযায়ী যাচাই করুন।
  3. ফ্রি-হিটে ব্যাটার বোল্ড হলে আগের নো বল বাতিল হয় না।
  4. প্রযুক্তিগত রিপ্লে থাকলেও মাঠের আম্পায়ারের প্রাথমিক কল গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিকেট আলোচনা ম্যাচ পর্যালোচনা, খেলোয়াড় পরিসংখ্যান, বিপিএল কভারেজ এবং বোলিং কৌশল নিয়ে তথ্য প্রকাশ করে; সেখানে নো বলের বিশ্লেষণ পড়ার সময় ডেলিভারি-ভিত্তিক ডেটা দেখুন, শুধু ফলাফল নয়। কারণ ১টি নো বল কখনও ১ রান, আবার শেষ ওভারে ৭ রান এবং ফ্রি-হিট—তিনটি আলাদা চাপ তৈরি করতে পারে।

আরও জানুন

৩০ দিনের অনুশীলনে নো বল বোঝা যায় কীভাবে?

৩০ দিনের অনুশীলনে প্রতিদিন ১০ মিনিট করে বলভিত্তিক স্কোরকার্ড পড়লে নো বল শনাক্ত করার দক্ষতা উন্নত হয়; লক্ষ্য হওয়া উচিত অন্তত ৩০টি ডেলিভারি বিশ্লেষণ, যেখানে ফ্রন্ট-ফুট, উচ্চতা, বাউন্সার, রান এবং আউটের ধরন আলাদা করে লেখা থাকবে। ক্রিকেট আইন এক দিনে মুখস্থ করার বিষয় নয়, কিন্তু পুনরাবৃত্ত ডেটা পর্যবেক্ষণে সিদ্ধান্ত দ্রুত হয়। প্রথম ৭ দিন সংজ্ঞা, পরের ১৪ দিন ম্যাচ উদাহরণ এবং শেষ ৯ দিন মিশ্র পরিস্থিতি অনুশীলন করুন।

প্রথম সপ্তাহে আইসিসি ও মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১ পড়ে নোট নিন। দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির স্কোরকার্ড থেকে নো বলের ঘটনাগুলো খুঁজুন; প্রতিটি ক্ষেত্রে বলের সংখ্যা, অতিরিক্ত রান এবং পরের ডেলিভারির ফল লিখুন। তৃতীয় সপ্তাহে ফ্রন্ট-ফুট নো বল, কোমরের ওপরে ফুলটস এবং অতিরিক্ত বাউন্সার আলাদা করুন। চতুর্থ সপ্তাহে ফ্রি-হিট, রান-আউট এবং ব্যাটিং বাউন্ডারির যোগফল যাচাই করুন।

অনুশীলনের জন্য এই সারণি ব্যবহার করতে পারেন:

পর্যবেক্ষণ কী লিখবেন
ডেলিভারির কারণ ফ্রন্ট-ফুট, উচ্চতা, বাউন্সার বা অন্য কারণ
অতিরিক্ত রান ১, ২, ৩ বা পরিস্থিতি অনুযায়ী মোট
বৈধ বল হ্যাঁ বা না
আউটের সুযোগ কোন আউট বৈধ
পরের ডেলিভারি ফ্রি-হিট, সাধারণ বল বা প্রতিযোগিতা-নির্ভর ফল

একটি তথ্যভিত্তিক বিপরীত সিদ্ধান্তও এখানে জরুরি: নো বল কমানো মানেই সব সময় বোলিং আক্রমণ উন্নত হওয়া নয়। কোনো বোলার যদি প্রতি ২৪ বলে ১টি নো বল করেন, কিন্তু ৮টি ডট বল ও ২টি উইকেট পান, তার কৌশল এবং ঝুঁকি আলাদা করে মূল্যায়ন করতে হবে; আবার শেষ ওভারে একই হার ম্যাচ হারাতে পারে। তাই শুধু নো বলের সংখ্যা নয়, পরিস্থিতি, ওভার, রান-রেট এবং ব্যাটারের বাউন্ডারি—এই চারটি সূচক একসঙ্গে দেখুন।

টি-টোয়েন্টি বোলিং কৌশল ও ডেথ ওভার পরিকল্পনা পড়ে নো বলের কৌশলগত প্রভাব আরও বিশ্লেষণ করুন। ৩০ দিনের শেষে আপনার কাছে একটি ব্যবহারযোগ্য নোট থাকবে, এবং অন্তত স্কোরবোর্ডকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করার অভ্যাসটি কমবে—এটিও পরিসংখ্যানগতভাবে বেশ সম্মানজনক উন্নতি।

ক্রিকেটে নো বলের নিয়ম: দ্রুত সারাংশ

ক্রিকেটে নো বল বোঝার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো প্রথমে ডেলিভারির বৈধতা নির্ধারণ, তারপর অতিরিক্ত রান যোগ, শেষে আউট ও ফ্রি-হিট যাচাই করা। ফ্রন্ট-ফুট ক্রিজ, কোমরের ওপরে ফুলটস, বাউন্সারের সীমা এবং ফিল্ডিং অবস্থান—এই চারটি কারণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ১টি নো বল ওভার থেকে বাদ পড়ে, কিন্তু স্কোর থেকে নয়; এই ছোট বাক্যটি মনে রাখলে অর্ধেক বিভ্রান্তি শেষ।

ম্যাচ দেখার সময় তিনটি প্রশ্ন করুন: বলটি কেন অবৈধ হলো, স্কোরে কত রান যোগ হলো এবং পরের বলে কী সুবিধা তৈরি হলো? আইসিসির খেলার শর্ত এবং মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন মিলিয়ে দেখলে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া নিয়মের পার্থক্যও পরিষ্কার হবে। ক্রিকেট আলোচনা নিয়ম, পরিসংখ্যান ও ম্যাচ কৌশল একসঙ্গে ব্যাখ্যা করে, তাই শুধু আম্পায়ারের সংকেত নয়—স্কোরকার্ডের অতিরিক্ত অংশও পড়ুন।

আরও নিয়মভিত্তিক ক্রিকেট বিশ্লেষণ শুরু করতে এখনই পরের নির্দেশিকাটি দেখুন।

আরও জানুন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: ক্রিকেটে নো বল কী?

উত্তর: বোলারের অবৈধ ডেলিভারিকে নো বল বলা হয়, এবং এতে ব্যাটিং দল সাধারণত ১ রান পায়। ফ্রন্ট-ফুট পপিং ক্রিজের বাইরে পড়া, কোমরের ওপরে ফুলটস, বিপজ্জনক বাউন্সার বা নির্দিষ্ট ফিল্ডিং আইন ভঙ্গ এর কারণ হতে পারে। নো বল বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না, তাই ওভার শেষ করতে নির্ধারিত ৬টি বৈধ বল সম্পন্ন করতে হয়।

প্রশ্ন: নো বলে কত রান পাওয়া যায়?

উত্তর: নো বলে সর্বনিম্ন ১ রান পাওয়া যায়, তবে ব্যাটার শট খেললে মোট রান আরও বাড়তে পারে। ব্যাটে ৪ রান হলে নো বলসহ মোট ৫ এবং ব্যাটে ৬ রান হলে মোট ৭ রান হয়, যদি কোনো অতিরিক্ত ওভারথ্রো না থাকে। বাই, লেগ-বাই বা দৌড়ের রান হলে স্কোরকার্ডে প্রতিটি উৎস আলাদা করে লেখা হয়।

প্রশ্ন: নো বলের পর ফ্রি-হিট কি সব সময় হয়?

উত্তর: সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নো বলের পর সাধারণত ফ্রি-হিট দেওয়া হয়, কিন্তু সব ফরম্যাটে এটি প্রযোজ্য নয়। টেস্ট ক্রিকেটে প্রচলিত ফ্রি-হিট ব্যবস্থা নেই, এবং ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলার শর্ত ভিন্ন হতে পারে। নির্দিষ্ট ম্যাচের আইসিসি বা আয়োজক সংস্থার নথি দেখে নিশ্চিত হওয়াই সঠিক পদ্ধতি।

প্রশ্ন: নো বলে ব্যাটার কি আউট হতে পারেন?

উত্তর: নো বলে ব্যাটার বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ বা সাধারণ স্টাম্পিংয়ে আউট হন না। তবে রান-আউট, অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড এবং কিছু পরিস্থিতিতে বল দুবার আঘাত করার কারণে আউট হতে পারেন। তাই “নো বলে আউট অসম্ভব” বলা ভুল; বরং আউটের অনুমোদিত ধরন সীমিত।

প্রশ্ন: নো বল ও ওয়াইড বলের পার্থক্য কী?

উত্তর: নো বল মূলত বোলারের ডেলিভারি বা নিয়মভঙ্গের কারণে হয়, আর ওয়াইড হয় বল ব্যাটারের স্বাভাবিক শটের নাগালের বাইরে গেলে। উভয় ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত রান হতে পারে এবং বলটি বৈধ বল হিসেবে গণনা নাও হতে পারে, কিন্তু ফ্রি-হিটের নিয়ম সাধারণত নো বলের সঙ্গে যুক্ত। স্কোরকার্ডে নো বল ও ওয়াইড আলাদা অতিরিক্ত হিসেবে লেখা হয়।

প্রশ্ন: ফ্রন্ট-ফুট নো বল কীভাবে শনাক্ত করবেন?

উত্তর: বোলারের সামনের পায়ের কোনো অংশ পপিং ক্রিজের পেছনে মাটিতে না থাকলে ফ্রন্ট-ফুট নো বল হয়। সাদা ক্রিজের দাগের ওপর পা পড়েছে কি না নয়, পায়ের অংশ দাগের পেছনে আছে কি না সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রচারিত ম্যাচে তৃতীয় আম্পায়ারের রিপ্লে সহায়ক হতে পারে, তবে মাঠের আম্পায়ারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অপরিহার্য থাকে।

প্রেরণের শেষ

আমাদের আর্কাইভ থেকে এই নিবন্ধ পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ